পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা দফতরে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আসতে চলেছে এক বড়সড় পরিবর্তন। সাম্প্রতিক খবরাখবর এবং সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্যে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার বিহার বা উত্তরপ্রদেশ (UP) মডেল অনুসরণ করার পথে হাঁটতে পারে শিক্ষা দফতর। অর্থাৎ, শুধুমাত্র টেট (TET) পাস করলেই সরাসরি ইন্টারভিউ নয়, বরং এরপর আরও একটি মূল লিখিত পরীক্ষা বা সুপার টেট (Super TET) নেওয়ার জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে পরীক্ষার্থীদের জন্য স্বস্তির খবর হলো, চলতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এই নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে না।
নিয়োগে নয়া সিদ্ধান্ত: কী কী পরিবর্তন আসতে চলেছে?
ব্রেকিং নিউজ এবং শিক্ষা দফতরের অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনতে বেশ কিছু কড়া পদক্ষেপ ও নিয়মের রদবদল করার ভাবনাচিন্তা চলছে। নতুন রূপরেখাটি হতে পারে ঠিক এই রকম:
- ৬০ নম্বর লিখিত পরীক্ষা: শুধুমাত্র টেট স্কোরের ভিত্তিতে নয়, নতুন নিয়মে ৬০ নম্বরের একটি আলাদা লিখিত পরীক্ষা (Super TET) নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।
- ৩০ নম্বর শিক্ষাগত যোগ্যতা: মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, গ্র্যাজুয়েশন এবং ট্রেনিং (D.El.Ed/B.Ed) সহ যাবতীয় শিক্ষাগত যোগ্যতার উপর মোট ৩০ নম্বর বরাদ্দ থাকতে পারে।
- ১০ নম্বর ইন্টারভিউ: বাকি ১০ নম্বর থাকবে অ্যাপ্টিটিউড টেস্ট এবং ইন্টারভিউয়ের জন্য।
- একই রকম মূল্যায়ন পদ্ধতি: রাজ্যের সমস্ত নিয়োগের ক্ষেত্রে মূল্যায়ন পদ্ধতি একই রকম করার পরিকল্পনা চলছে।
- বাংলার জন্য আলাদা পেপার: নিয়োগ পরীক্ষায় বাংলাতেও একটি আলাদা পেপার বা সেকশন রাখার ভাবনা রয়েছে।
- OMR-এর কার্বন কপি: পরীক্ষার্থীদের সুবিধার্থে ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পরীক্ষার পর উত্তরপত্রের (OMR Sheet) কার্বন কপি পরীক্ষার্থীদের দিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
বিহার / UP মডেল আসলে কী?
উত্তরপ্রদেশ এবং বিহারে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে এই নির্দিষ্ট মডেল অনুসরণ করা হয়। এই রাজ্যগুলিতে প্রথম ধাপে শিক্ষকতার যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা বা TET পাস করতে হয় (যা শুধুমাত্র একটি কোয়ালিফাইং রাউন্ড)। এরপর শূন্যপদের ভিত্তিতে মূল নিয়োগের জন্য চাকরিপ্রার্থীদের আরও একটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিতে হয়, যা সুপার টেট (Super TET) নামে পরিচিত। পশ্চিমবঙ্গেও বিগত দিনের দুর্নীতি কমানোর লক্ষ্যে এবং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের মেধার ভিত্তিতে সুযোগ করে দিতে এই মডেলের দিকেই ঝুঁকছে প্রশাসন।
আগামীর প্রস্তুতি
রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য হলো কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করা। নতুন এই পদ্ধতি (60+30+10) কার্যকর হলে শিক্ষক নিয়োগে দীর্ঘদিনের জটিলতা ও মামলা-মোকদ্দমা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা যায়। যারা আগামী দিনে প্রাথমিক শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের এখন থেকেই টেট পাসের পাশাপাশি মূল লিখিত পরীক্ষা বা সুপার টেট-এর কথা মাথায় রেখে প্রস্তুতি শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

0 Comments