Advertisement

রাজ্যে স্বচ্ছ নিয়োগের লক্ষ্যে কড়া পদক্ষেপ: ৬ই জুন বিধানসভায় আলোচনা, সরকারি চাকরিতে কমছে মৌখিকের গুরুত্ব

কলকাতা: রাজ্যে কর্মসংস্থান এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হারানো স্বচ্ছতা ফেরাতে বড়সড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। বিগত কয়েক বছরে শিক্ষক নিয়োগ সহ একাধিক ক্ষেত্রে দুর্নীতির জেরে রাজ্যের যে ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে, তা পুনরুদ্ধার করতে তৎপর হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৬ই জুন রাজ্য বিধানসভায় নতুন নিয়োগ নীতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে চলেছে। সেখানে সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষার (Interview/Viva) নম্বর কমানোর বিষয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি হতে পারে।

সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বেশ কিছু মন্তব্য থেকে এই নতুন নিয়োগবিধির ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছে।

মূল বিষয়বস্তু ও মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য:

  • ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার: মুখ্যমন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গকে নিয়ে একসময় যে অনেক আশা ছিল, গত কয়েক বছরে তা ধ্বংস হয়ে গেছে। নিয়োগ দুর্নীতিতে রাজ্যের চরম বদনাম হয়েছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের পরীক্ষাকেন্দ্রগুলি এতটাই কলুষিত হয়ে পড়েছিল যে, রেল বা সিআরপিএফ (CRPF)-এর মতো কেন্দ্রীয় স্তরের পরীক্ষাগুলির সিটও পশ্চিমবঙ্গে দেওয়া হচ্ছিল না। এই নেতিবাচক ভাবমূর্তির বাইরে রাজ্যকে বের করে আনাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
  • মৌখিক পরীক্ষায় রাশ: দুর্নীতির মূল শিকড় উপড়ে ফেলতে এবং নিয়োগে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সরকার নয়া নীতির পথে হাঁটছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, "আমরা চাই মৌখিক নম্বর কিছুটা কমিয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ।" সাধারণত সরকারি চাকরিতে মৌখিক পরীক্ষাতেই সবচেয়ে বেশি স্বজনপোষণ বা কারচুপির অভিযোগ ওঠে। তাই ইন্টারভিউয়ের ওয়েটেজ (Weightage) কমিয়ে লিখিত পরীক্ষার ওপর বেশি জোর দেওয়ার এই ভাবনাকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
  • কর্মসংস্থানই মূল লক্ষ্য: বর্তমান সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য বাংলায় ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরি করা। বিদায়ী সরকারের বিরুদ্ধে নিয়ম না মানার অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নতুন প্রজন্মের আশা এবং স্বপ্নপূরণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

আগামীর পদক্ষেপ

আগামী ৬ই জুন বিধানসভা অধিবেশনে এই নতুন নিয়োগ নীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। কীভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ১০০ শতাংশ দুর্নীতিমুক্ত করা যায় এবং দ্রুত শূন্যপদগুলি পূরণ করা যায়, তা নিয়ে ওইদিন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ দুর্নীতির জেরে রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীরা যে চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন, এই নতুন ঘোষণা তাঁদের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। এখন সকলের নজর আগামী ৬ই জুনের বিধানসভা অধিবেশনের দিকে।

Post a Comment

0 Comments